সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভিন্নতায়, ভিন্নতর বন্ধন : হাইড্রোজেন বন্ধন

 



কখনো কি ভেবে দেখেছি পানির বিভিন্ন অবস্থার ভিন্নতার পেছনে কি দায়ী। কখনো পানি তরল, কখনো বরফ, কখনো সেই বরফ আবার পানিতে ভাসতে দেখি। এই সবকিছুর মুলে রয়েছে হাইড্রোজেন বন্ধন।

পানির গঠনে হাইড্রোজেন বন্ধনের ভিন্নতার উপর পানির অবস্থা নির্ভর করে। যেমনঃ পানির হাইড্রোজেন বন্ধন যদি সরলরৈখিক হয় তাহলে সেটি তরল অবস্থায় থাকে এবং যদি পানির হাইড্রোজেন বন্ধন কেলাস আকারে থাকে অর্থাৎ অণুগুলা পরস্পরের সাথে একটা বলয় গঠন করে তখন পানি কঠিন অবস্থায় থাকে অর্থাৎ বরফের আকৃতি ধারণ করে। আবার আমরা জানি বরফ পানিতে ভাসে। কেনো ভাসে সেটিও আমরা হাইড্রোজেন বন্ধন দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি।

বরফের কেলাসে প্রতিটি পানির অণু অপর চারটি পানির অণুর সাথে আন্তঃআণবিক হাইড্রোজেন বন্ধনের মাধ্যমে চতুষ্তলকীয় ভাবে পরিবেষ্টিত থাকে এবং একটা উন্মুক্ত কাঠামো বিশিষ্ট বলয় গঠন করে। এরূপ কাঠামো গঠনে বরফের কেলাসে পানির অণুর মধ্যে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হয়।ফলে বরফের আয়তন বৃদ্ধি পায়।

আমরা জানি,

ঘনত্ব ∝ 1/আয়তন

এর অর্থ হলো  আয়তন বৃদ্ধির সাথে সাথে বরফের ঘনত্ব কমে যায়। যার কারণে বরফ পানিতে ভাসে।


হাইড্রোজেন বন্ধন কেনো গঠিত হয়?

হাইড্রোজেন যখন অধিক তড়িৎ ঋণাত্নক (F, N, O) মৌলের সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করে তখন এদের তড়িৎ ঋণাত্নকতা বেশি হওয়ায় বন্ধন জোড় ইলেকট্রনগুলা এদের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে ওই পরমাণুটি আংশিক ঋণাত্মক এবং হাইড্রোজেন পরমাণুটি আংশিক ধনাত্মক চার্জ সৃষ্টি করে। এভাবে সৃষ্ট পোলার অণু যখন অন্য কোনো অণুর কাছাকাছি আসে তখন একটি পরমাণুর ধনাত্মক প্রান্তের সাথে অপর পরমাণুর ঋণাত্মক প্রান্তের মধ্যে এক ধরনের আর্কষণ বল ক্রিয়া করে। এই আর্কষণের কারণে এক ধরনের বন্ধন গঠিত হয়; সেটিই মূলত হাইড্রোজেন বন্ধন।

হাইড্রোজেন বন্ধনকে আমরা (………) দ্বারা প্রকাশ করি। যেমনঃ H-F•••H-F•••H-F

হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত পরমাণুটির তড়িৎ ঋণাত্নকতার মান যত বেশি হয় হাইড্রোজেন বন্ধনটি তত বেশি শক্তিশালী হয়। যেমনঃ

H•••F > H•••O > H•••N



সূত্র: MD Sayeed Al Imran
fb@chemistryclub.ongko

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যোজ্যতা বা যোজনী নিয়ে যত কথা।

  যৌগ গঠনকালে পরমাণু, মৌল, মূলক বা যৌগমূলকগুলি  কিভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত হবে তার অনেকটাই  নির্ভর করে যোজনীর উপরে। তবে আজ জেনে নেয়া যাক কি এই যোজনী। ১। যোজনীঃ একটি মৌলের অপর একটি মৌলের সাথে যুক্ত হবার সামর্থ্যকেই যোজনী বলে। আবার অন্যভাবে বলা যায়, কোন মৌল এক পরমানু হাইড্রোজেন(H) অথবা তার সমতুল্য অন্য মৌলের যত সংখ্যক পরমাণুর সাথে সংযুক্ত হয় তাকে যোজনী বলে। যেমন মিথেন (CH4) এ কার্বনের (C) যোজনী চার। কেননা কার্বন (C) চার পরমানু হাইড্রোজেনের(H) সাথে যুক্ত হয়েছে। তেমন ভাবেই পানিতে অক্সিজেনের যোজনী দুই। ২। ইলেকট্রনীয় ধারনায় যোজনীঃ যৌগ গঠন কালে কোন একটি পরমানু বা মূলক অপর একটি পরমানু বা মূলক হতে যে কয়টি ইলেকট্রন গ্রহন করে বা প্রদান করে তাই তার যোজ্যতা বা যোজনী। যেমন বলা যায় ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড লবন গঠন কালে ক্যালসিয়াম তার শেষোক্ত ২ টি ইলেকট্রন দান করে তাই ক্যালসসিয়ামের যোজনী ২ অন্যদিকে এই দানকৃত ২ টি ইলেকট্রনের একটি করে ২ টি ক্লোরিন গ্রহন করে তাই ক্লোরিন এর যোজনী এক। বিঃ দ্রঃ শুধুমাত্র যে গ্রহন বা বর্জন ই ঘটবে এমন না শেয়ার ও হতে পারে এইতো গেলো যোজনীর কথা। তবে জেনে রাখা ভালো কোন ম...

ক্লোরোফিল : সবুজের কারিগর

#জীববিজ্ঞানের_অলি-গলিতে উদ্ভিদ ও প্রাণির মধ্যে একটি বড় পার্থক্য হলো-- প্রায় সব উদ্ভিদের গায়ের রঙই সবুজ। কিন্তু প্রাণিদের গাত্রবর্ণের এই বৈশিষ্ট্য নেই। সবুজ হওয়া গাছের একটি বৈশিষ্ট্য এবং ওদের জন্য এটা আইনসিদ্ধ ব্যাপারও বটে (😛 )। গাছের যে সবুজ রঙ থাকতেই হবে। এই সবুজ রঙের পেছনে যে রাসায়নিক পদার্থ কাজ করে তারই নাম ক্লোরোফিল।  এটি সবুজ রঙের পিগমেন্ট বা বর্ণকণিকা। এটি থাকে পাতার মেসোফিল টিশ্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে। ­ ক্লোরোফিল দুইপ্রকারের হয়ে থাকে। ১. ক্লোরোফিল a [ ch a ] ==> C55H72O5N4Mg ২. ক্লোরোফিল b [ ch b ] ==> C55H70O6N4Mg ক্লোরোফিল a হলো হলদে সবুজও ক্লোরোফিল b হলো নীলাভ সবুজ। গাছ ক্লোরোফিলের সাহায্যেই সূর্যরশ্মি থেকে শক্তি সংগ্রহ করে এবং এই শক্তি কাজে লাগিয়ে মাটি থেকে সংগৃহিত অজৈব রাসায়নিক পদার্থকে জৈব রাসায়নিক পদার্থে পরিণত করে। ব্যাকটেরিয়া ও শৈবালে ভিন্ন ধরনের ক্লোরোফিল থাকে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন ch a একমাত্র পিগমেন্ট যার শোষিত আলোকশক্তি সালোকসংশ্লেষনের কাজে লাগে এবং অন্যান্য পিগমেন্টগুলো তাদের শোষিত আলোক শক্তি ch a কে প্রদানপূর্বক সালোকসংশ্লেষনে সাহায্য করে। পরীক্ষায় দেখা ...

মাইটোকন্ড্রিয়া : দেহের ভিতর পাওয়ার হাউস

  #জীববিজ্ঞানের_অলি-গলিতে মাইটোকন্ড্রিয়া, কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস নামে পরিচিত কোষীয় অঙ্গানু। মাইটোকন্ড্রিয়ার আবিস্কার নিয়ে মতভেদ আছে। একটি মতে, বিজ্ঞানী অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে ইহা আবিষ্কার করেন। আবার কারও মতে, গ্রিক বিজ্ঞানী সি. বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়া আবিস্কার করেন। এন্ডোসিম্বায়োটিক থিওরী অনুযায়ী মাইটোকন্ড্রিয়া বহু আগে মুক্তজীবি ব্যাক্টেরিয়া ছিল। যা এন্ডোসিম্বায়োন্ট হিসেবে অন্য কোষের মধ্যে ঢুকে পরে এবং একসময় কোষেরই অংশ হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের ধারনা, মাইটোকন্ড্রিয়া এসেছে প্রোটিওব্যাক্টেরিয়া থেকে ! এর জন্য বিজ্ঞানীরা অনেক প্রমান দাড় করিয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় যেটা তা হল ডিএনএ। মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব ডিএনএ রয়েছে যা প্রোটিওব্যাক্টেরিয়ার সাথে তুলনা করলে বিশাল মিল পাওয়া যায়। এগুলো থেকে বুঝা যায় বুঝা যায় যে মাইটোকন্ড্রিয়া ব্যাক্টেরিয়া থেকে এসেছে। লোহিতরক্তকণিকা এবং উদ্ভিদের সীভনল ব্যতীত সকল প্রকার শক্তিউৎপাদী কোষেই মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। আকারভেদে মাইটোকন্ড্রিয়ার আয়তন বিভিন্ন রকম। বৃত্তাকার মাইট্রোকন্ড্রিয়ার ব্যাস ০.২ µm থেকে...