সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ক্লোরোফিল : সবুজের কারিগর




#জীববিজ্ঞানের_অলি-গলিতে

উদ্ভিদ ও প্রাণির মধ্যে একটি বড় পার্থক্য হলো-- প্রায় সব উদ্ভিদের গায়ের রঙই সবুজ। কিন্তু প্রাণিদের গাত্রবর্ণের এই বৈশিষ্ট্য নেই। সবুজ হওয়া গাছের একটি বৈশিষ্ট্য এবং ওদের জন্য এটা আইনসিদ্ধ ব্যাপারও বটে (😛 )। গাছের যে সবুজ রঙ থাকতেই হবে।

এই সবুজ রঙের পেছনে যে রাসায়নিক পদার্থ কাজ করে তারই নাম ক্লোরোফিল। 
এটি সবুজ রঙের পিগমেন্ট বা বর্ণকণিকা। এটি থাকে পাতার মেসোফিল টিশ্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে। ­

ক্লোরোফিল দুইপ্রকারের হয়ে থাকে।
১. ক্লোরোফিল a [ ch a ] ==> C55H72O5N4Mg
২. ক্লোরোফিল b [ ch b ] ==> C55H70O6N4Mg

ক্লোরোফিল a হলো হলদে সবুজও ক্লোরোফিল b হলো নীলাভ সবুজ।
গাছ ক্লোরোফিলের সাহায্যেই সূর্যরশ্মি থেকে শক্তি সংগ্রহ করে এবং এই শক্তি কাজে লাগিয়ে মাটি থেকে সংগৃহিত অজৈব রাসায়নিক পদার্থকে জৈব রাসায়নিক পদার্থে পরিণত করে।
ব্যাকটেরিয়া ও শৈবালে ভিন্ন ধরনের ক্লোরোফিল থাকে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন ch a একমাত্র পিগমেন্ট যার শোষিত আলোকশক্তি সালোকসংশ্লেষনের কাজে লাগে এবং অন্যান্য পিগমেন্টগুলো তাদের শোষিত আলোক শক্তি ch a কে প্রদানপূর্বক সালোকসংশ্লেষনে সাহায্য করে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রধানত দুই রকমের ch a আছে।
১. ch a ৬৭৩, যা ৬৭৩nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করতে পারে।
২. ch a ৬৮৩, যা ৬৮৩nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করতে পারে।

ক্লোরোফিল আছে বলেই মাটি ও বাতাস থেকে গাছ খাদ্য তৈরি করতে পারে। ক্লোরোফিল না থাকলে গাছ বেড়ে উঠতে পারতোনা। ফলে মানুষ ও প্রাণিজগতের কোন অস্তিত্বই থাকতো না।


মুল পোস্ট : ক্লোরোফিল : সবুজের কারিগর

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যোজ্যতা বা যোজনী নিয়ে যত কথা।

  যৌগ গঠনকালে পরমাণু, মৌল, মূলক বা যৌগমূলকগুলি  কিভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত হবে তার অনেকটাই  নির্ভর করে যোজনীর উপরে। তবে আজ জেনে নেয়া যাক কি এই যোজনী। ১। যোজনীঃ একটি মৌলের অপর একটি মৌলের সাথে যুক্ত হবার সামর্থ্যকেই যোজনী বলে। আবার অন্যভাবে বলা যায়, কোন মৌল এক পরমানু হাইড্রোজেন(H) অথবা তার সমতুল্য অন্য মৌলের যত সংখ্যক পরমাণুর সাথে সংযুক্ত হয় তাকে যোজনী বলে। যেমন মিথেন (CH4) এ কার্বনের (C) যোজনী চার। কেননা কার্বন (C) চার পরমানু হাইড্রোজেনের(H) সাথে যুক্ত হয়েছে। তেমন ভাবেই পানিতে অক্সিজেনের যোজনী দুই। ২। ইলেকট্রনীয় ধারনায় যোজনীঃ যৌগ গঠন কালে কোন একটি পরমানু বা মূলক অপর একটি পরমানু বা মূলক হতে যে কয়টি ইলেকট্রন গ্রহন করে বা প্রদান করে তাই তার যোজ্যতা বা যোজনী। যেমন বলা যায় ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড লবন গঠন কালে ক্যালসিয়াম তার শেষোক্ত ২ টি ইলেকট্রন দান করে তাই ক্যালসসিয়ামের যোজনী ২ অন্যদিকে এই দানকৃত ২ টি ইলেকট্রনের একটি করে ২ টি ক্লোরিন গ্রহন করে তাই ক্লোরিন এর যোজনী এক। বিঃ দ্রঃ শুধুমাত্র যে গ্রহন বা বর্জন ই ঘটবে এমন না শেয়ার ও হতে পারে এইতো গেলো যোজনীর কথা। তবে জেনে রাখা ভালো কোন ম...

মাইটোকন্ড্রিয়া : দেহের ভিতর পাওয়ার হাউস

  #জীববিজ্ঞানের_অলি-গলিতে মাইটোকন্ড্রিয়া, কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস নামে পরিচিত কোষীয় অঙ্গানু। মাইটোকন্ড্রিয়ার আবিস্কার নিয়ে মতভেদ আছে। একটি মতে, বিজ্ঞানী অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে ইহা আবিষ্কার করেন। আবার কারও মতে, গ্রিক বিজ্ঞানী সি. বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়া আবিস্কার করেন। এন্ডোসিম্বায়োটিক থিওরী অনুযায়ী মাইটোকন্ড্রিয়া বহু আগে মুক্তজীবি ব্যাক্টেরিয়া ছিল। যা এন্ডোসিম্বায়োন্ট হিসেবে অন্য কোষের মধ্যে ঢুকে পরে এবং একসময় কোষেরই অংশ হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের ধারনা, মাইটোকন্ড্রিয়া এসেছে প্রোটিওব্যাক্টেরিয়া থেকে ! এর জন্য বিজ্ঞানীরা অনেক প্রমান দাড় করিয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় যেটা তা হল ডিএনএ। মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব ডিএনএ রয়েছে যা প্রোটিওব্যাক্টেরিয়ার সাথে তুলনা করলে বিশাল মিল পাওয়া যায়। এগুলো থেকে বুঝা যায় বুঝা যায় যে মাইটোকন্ড্রিয়া ব্যাক্টেরিয়া থেকে এসেছে। লোহিতরক্তকণিকা এবং উদ্ভিদের সীভনল ব্যতীত সকল প্রকার শক্তিউৎপাদী কোষেই মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। আকারভেদে মাইটোকন্ড্রিয়ার আয়তন বিভিন্ন রকম। বৃত্তাকার মাইট্রোকন্ড্রিয়ার ব্যাস ০.২ µm থেকে...